Samkhya Philosophy
( সাংখ্য দর্শন )
-
Meaning of Samkhya Philosophy :
———Maharshi Kapila.
ভারতীয় দার্শনিক মতবাদ গুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম দর্শন হলো সাংখ্য দর্শন। সাংখ্য দর্শনের প্রবক্ত হলেন কপিল মুনি ।
পরবর্তীতে এই মতবাদের বিস্তৃতি ঘটে কপিল মুনির শিষ্য আসুরি এবং পঞ্চশিখ প্রমূখ দার্শনিক , তথা চিন্তাবিদদের প্রচেষ্টায়।
সাংখ্য শব্দটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল সাংখ্য বা গণনার ভিত্তিতে জ্ঞান লাভ । অর্থাৎ সাংখ্য শব্দের অর্থ হলো সাম্যক জ্ঞান।
যে দর্শন সাম্যক জ্ঞানের পরিচয় দেয় তাই সাংখ্য দর্শন।
সাংখ্য দর্শন ঈশ্বর তত্ত্বকে স্বীকার না করলেও , দুটি সত্তাকে স্বীকার করে একটি হল পুরুষ এবং অপরটি প্রকৃতি, তাই এই দর্শনকে দ্বৈত মতবাদও বলা হয়।
- i) Purush :- সাংখ্য সাম্প্রদায়রা পুরুষ বলতে আত্মাকে বুঝিয়েছেন। পুরুষ বা আত্মা একটি স্বতন্ত্র সত্তা । আত্মা কোন জাগতিক বস্তু নয় বা আত্মা অপরিবর্তনীয় সত্তা। আত্মার কোন পরিবর্তন হয় না । সাংখ্য দর্শনে আত্মার বহুত্ব স্বীকার করা হয়েছে । কারণ প্রতিটি দেহেই পুরুষ বা আত্মা আছে। যার অস্তিত্ব আছে যা দেহ – মন- বুদ্ধি- অহংকার । এর অভাবে বুদ্ধি অহংকার মনবিহীন হয়ে পড়ে তাই হল আত্মা বা পুরুষ।
ii)Prakriti :- অপর একটি সত্তা হলো প্রকৃতি। তারা মনে করেন , জগৎ কেউ সৃষ্টি করেনি জগতের অভিব্যক্তি হল প্রকৃতির উৎস। প্রকৃতি অচেতন বুদ্ধিহীন , এবং প্রকৃতি তিনটি গুন আছে সত্য , রজ এবং তম। প্রত্যেকটি কর্মের মধ্যেই এই তিনটি গুণ বর্তমান থাকে, যখন প্রকৃতি এবং পুরুষ পরস্পরের কাছে আসে তখনই বিবর্তনে সূত্রপাত সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে যার ফলে সৃষ্টি হয় বুদ্ধি আবার বুদ্ধি থেকেই অহংকারের সৃষ্টি হয়। এই অহংকার তিন প্রকার।
সাত্ত্বিক অহংকার , রাজস্ব অহংকার এবং তামস অহংকার ।
সাংখ্য মতে অভিমানী অহংকারের বৈশিষ্ট্য। অহম এবং মন থেকেই অহংকারের সৃষ্টি । সাত্ত্বিক অহংকার থেকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় ও পঞ্চকর্মনেন্দ্রিয় এবং মনের সৃষ্টি হয়।
তামস অহংকার থেকে পাঁচটি তন্মাত্র সৃষ্টি হয় এবং পাঁচটি তন্মাত্র থেকে পঞ্চমহাভূতের সৃষ্টি হয়।
-
Characteristics of Samkhya Philosophy :
উপনিষদের উপর ভিত্তি করে যে দুটি ভারতীয় দর্শনের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলি হল –
- দি রিয়ালেস্টিক (সংখ্যা ) এবং
- দি আইলস্টিক (বেদান্ত )
- সংখ্যা এবং যোগের মৌলিক মতবাদ কে একত্রিত করে প্রকৃতি ও পুরুষের সমন্বয়ে জীবন্ত উপাদানের সংমিশ্রনে গঠিত।
- কিন্তু পুরুষ জীবন্ত উপাদানের সাহায্য ছাড়াই ক্রিয়া করে।
- পুরুষ হলো স্বাধীন সত্তা ।
- সংখ্যা মতে আত্মা ও একটি স্বাধীন সত্তা ।
- মানুষ জন্মের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো পরিত্রাণ বা মুক্তি লাভ ।
Living Element – Parush
Non-Living Elements – Prakriti
Salvation (দুঃখ ও দুঃখ নিভৃতি তত্ত্ব ) ঃ-
সাংখ্য মতে মানব জন্মের মূল মন্ত্র হল তিনটি দুঃখ থেকে মুক্তি। যা ব্যক্ত জগত , অব্যক্ত প্রকৃতি এবং জ্ঞান পুরুষের স্বরূপ অনুধাবনের মাধ্যমে দুঃখের হাত থেকে নিবৃত্তি লাভ পাওয়া যায়।
দুঃখ নিভৃতি বা মুক্তি দুই প্রকার
- i) Jeevanmukta : যে মানুষ বর্তমান জীবনে তিনটি দুঃখের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্ত তাকে জীবন মুক্ত বা জীবনের পরিত্রান বলা হয়
- ii) Videhamukta : যিনি মৃত্যুর পর তিনটি দুঃখের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্ত তাকে বলা হয় বিদেহ মুক্ত বা দেহবিহীন পরিত্রান বলা হয়।
তাই মুখ লাভের সর্বোচ্চ উপায় হলো বিচক্ষণ জ্ঞান।
-
Epistemology of Samkhya Philosophy :
- Epistomology : সাংখ্য দর্শনের তিনটি জ্ঞান তথ্য হলো প্রত্যক্ষণ ,অনুমান এবং শব্দ।
1 . Perception :
প্রত্যক্ষণ হলো অর্থপূর্ণ সংবেদন । যখন কোন বস্তুর মধ্যে সংবেদন হয় তখন বস্তুর পঞ্চইন্দ্রিয়ের মধ্যে একটা অর্থপূর্ণ ধারণা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষণ দুই প্রকারের সবিকল্প ও নির্বিকল্প
-
i) Indeterminate Perception :
সবিকল্প প্রত্যক্ষণ বস্তু এবং পঞ্চইন্দ্রিয়ের মধ্যে যোগাযোগের পরই এই প্রত্যক্ষণ তৈরি হয়। যেমন শিশুর কোন বিষয় বস্তু সম্পর্কে সংবেদন তৈরী হয় কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারেনা ।
-
ii) Determinate Perception :
অপরদিকে কোন বস্তু পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বস্তুর গুণাবলী নিয়ে উপলব্ধি করা হয় ।যেমন বই,টেবিল এর ধারণা ইত্যাদি।
2. Inference:
অনুমান যা জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাঙ্ঘ দর্শন মতে প্রত্যক্ষ থেকে অনুমানের সৃষ্টি হয়।
3. Verbal Testimology:
অনুমানের ভিত্তিক শব্দ ছাড়া আর অন্য কোন শব্দের প্রমাণ কে স্বীকার করেননি।
-
Metaphysic of Samkhya Philosophy :
Metaphysic: সাংখ্য মতে, অধিবিদ্যা হলো পুরুষ ও প্রকৃতির সমন্বয়ে গঠিত।
মহাবিশ্বের সৃষ্টি যা ২৫ টি বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত।
যা পুরুষ , প্রকৃতি, মহৎ বা বুদ্ধি ,অহংকার, মন, পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় ,পঞ্চকর্মানন্দ্রিয় ,পঞ্চতনমাত্র, পঞ্চ মহাভূত, ।
Dualistic Realism.
-
Purush
-
Prakriti
The Theory of Cawsation :
ভারতীয় দর্শনের কার্যক্রম তত্ত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হল – সৎ কার্যবাদ এবং অসৎ কার্যবাদ।
-
Satkaryavada :
সাংখ্য মতে, সৎ কার্যবাদকে পরিনামবাদ ও বলা হয়। সাধারণত যে কোনো উৎপন্ন বস্তুকে বলা হয় কার্য এবং যা থেকে এই কার্য উৎপন্ন হয় তাকে বলা হয় কার্যের কারণ।
সাংখ্য সম্প্রদায়গগণ উপাদান ও নিমিত্ত এই দুই প্রকার কারণ কে স্বীকার করেছেন।
মৃত্তিকা নির্মিত ঘটের ক্ষেত্রে ,মৃত্তিকা হল উপাদান কারণ এবং দন্ড চক্রাদী হলো নিমিত্ত কারণ।
-
Asatkaryavada :
কার্যকরণ বর্তমান থাকে না, এই মতবাদের বিশ্বাসী তারা মনে করেন, উৎপন্ন হওয়ার পূর্বে কার্যের কোন অস্তিত্ব থাকে না। কার্য সম্পন্নভাবে নতুন সৃষ্টি বা আরম্ভ তাই এই তথ্যটিকে আরম্ভবাদ ও বলা হয়।
Panchbinshati Theory :
-
Five Sense Organ – Sattva – Jaynendriya. (Eyes , Ears , Nose , Tongue , Skin .)
-
Five Subtle Element – Tamas – Tanmatras (Sound , Touch , Form , Taste , Smell .)
-
Five Gross Element – Rajas – Mahabhutas (Space , Water , Air , Fire , Earth .)
-
Five Motor Organ – ( Mouth , Arms , Legs , Excretory , and Reproductive .)
-
Parush.
-
Prakriti.
-
Mahat/ Buddhi.
-
Ahankar.
-
Mind.
-
Axiology of Samkhya Philosophy :
Axiology : সাংখ্য মতে, দুঃখ থেকে মুক্তির নামই হল পরিত্রাণ। যা শরীর, মন আত্তা থেকে মুক্তি ।যা পুরুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে উৎপন্ন। যখন পুরুষ বুদ্ধির কাজকে নিজের কাজ বলে বিচার করে ,তখন প্রকৃতির সত্য , রজ, তম ,বৈশিষ্ট্য গুলি অনুভব করে, তখন তাকে অজ্ঞানতা বলে।
পুরুষ ও প্রকৃতির মাধ্যমেই বিবেক জ্ঞান সৃষ্টি হয়। যা আত্মাকে মুক্ত করাই হলো জীবের লক্ষ্য। এই জ্ঞান লাভে মানুষের মুক্তি লাভ করে, যা যোগাভ্যাস এর মাধ্যমে এ লোক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব ।
- Main causes is Ignorance.
F . Samkhya Philosophy and Education :
1 . Aim of Education :
মানব জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মোক্ষ লাভ করা। মোক্ষ তিনটি দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ ।শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো বিচক্ষণ ব্যক্তি তৈরি করা ।
-
Curriculum of Education :
পাঠক্রম হবে, দৈনিক আধ্যাত্মিক ও মানবীয় দিকের উপর ভিত্তি করে ।এছাড়া ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, বিষয়ে ও শিক্ষা দিতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি ভাষা ,সাহিত্য ,সমাজবিজ্ঞান ,গণিত, পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
-
Methods of Education :
সাংখ্য মতে, জ্ঞানপ্রাপ্তি হয় ভেতর থেকে বাইরের দিকে এবং এই জ্ঞানপ্রাপ্তির জন্য পুরুষ ও প্রকৃতির সমন্বয়ে প্রয়োজন। যেখানে প্রত্যক্ষ পদ্ধতি ,অনুমান পদ্ধতি ,বিবৃতি পদ্ধতি ,পরীক্ষামূলক শিখন, সক্রিয়তা ভিত্তিক শিখন ,ইন্দ্রিয় শিখন , প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় ।
- Direct Method.
- Gussing Method.
- Statement Method.
-
Discipline of Education :
সাংখ্য যোগ অনুশাসনের পন্থা ।সাংখ্য মতে অনুশাসন না মেনে শরীরকে সুস্থ করে তোলা যায় না এবং মন ,অহম ও বুদ্ধি সত্তাকে সুস্থ না করে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারা যায় না।
-
Teacher of Education :
সাংখ্য মতে, একজন শিক্ষক তার বিষয় পারদর্শী হবেন। তিনি প্রকৃত প্রকৃতি ও পুরুষের পার্থক্য সম্পর্কে বিচক্ষণ জ্ঞান প্রদান করবেন। তিনি শিশুর সহজাত সম্ভাবনার বিকাশে সহায়ক হবেন।
-
Student of Education :
সাংখ্য দর্শন হলো অনেকান্ত বাদী দর্শন ।শিক্ষা অবশ্যই ব্যক্তি কেন্দ্রিক ও শিশু কেন্দ্রিক হবে। সত্য, তম, রজ, উপাদান গুলি শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকেসমর্থন করে।
G. Educational implication of Modern Trained in Education :
- প্রকৃতি সাথে পুরুষের মিথষ্ক্রিয়ার ফলে একটি সৃষ্টিতত্ত্ব প্রদান করে।
- শিশু সত্য সম্ভাবনা গুলির পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তা করা ।
- আধুনিক শিক্ষায় পুরুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক ক্রিয়া ।
- শিক্ষার্থীর অভিযোজন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে ।
- মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক শিক্ষায় প্রতিফলিত করে ।
- আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর ব্যক্তি স্বতন্ত্র নীতি স্থান পেয়েছে।
- শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি হচ্ছে।।
Thank you.
For more details Please see Pdf..